বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণায় ব্রাজিলসহ তিন দেশের অর্থায়নের দাবি মিলেইর

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণায় ব্রাজিলসহ তিন দেশের অর্থায়নের দাবি মিলেইর

স্পোর্টস ডেস্ক:

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত সমালোচনামূলক প্রচারণার বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তাঁর দাবি, এই প্রচারণার অর্থায়নে ব্রাজিল সরকার, মেক্সিকো সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সংশ্লিষ্টতা ছিল।

স্থানীয় একটি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলেই বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনাকে লক্ষ্য করে যে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়, তার পেছনে একাধিক পক্ষ অর্থ ব্যয় করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোট অর্থায়নের প্রায় ২৫ শতাংশ এসেছে ব্রাজিল সরকারের কাছ থেকে।

বিশ্বকাপে বিতর্কের পর মিলেইর মন্তব্য

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ–সংক্রান্ত একটি ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এছাড়া ফাইনাল শেষে কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও আলোচনায় আসে।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে বিভিন্ন সমালোচনা ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

প্রমাণ উপস্থাপন করেননি প্রেসিডেন্ট

সাক্ষাৎকারে মিলেই আরও দাবি করেন, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও ওই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মিলেই লেখেন, “আপনার যদি শত্রু থাকে, তাহলে বুঝতে হবে আপনি কোনো না কোনো আদর্শের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। আমরা আর্জেন্টিনার পক্ষেই দাঁড়াই।”
আরেক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে বলেই দেশটি অনেক সময় সমালোচনার মুখে পড়ে।

ফাইনালে মাঠে না যাওয়ার ব্যাখ্যা

বিশ্বকাপ ফাইনালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উপস্থিত থাকলেও সেখানে যাননি হাভিয়ের মিলেই। পরে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও কুসংস্কারের কারণে তিনি বাসভবন থেকেই পুরো ম্যাচ উপভোগ করেছেন।

মিলেইর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট জ্যাকেট পরে ম্যাচ দেখার সময় দল ভালো ফল করছিল। তাই সেই সৌভাগ্যের বিশ্বাস থেকেই তিনি ফাইনালের দিনও স্টেডিয়ামে না গিয়ে একইভাবে বাসা থেকে খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নেন।

সিএক্স/রয়েল