২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ লতিফ সিদ্দিকীকে হাজির করা হলে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানির সময় লতিফ সিদ্দিকী ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আদালত তার বক্তব্য শোনেননি। এ সময় তিনি নিজের ফাঁসির দাবি জানান। পরে আদালত কক্ষে দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে আদালত কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যায়।
এদিকে, শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন লতিফ সিদ্দিকীর ভাই বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার বড় ভাইকে অন্যায়ভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা এই মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এর আগে গত সোমবার শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ওই মামলায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ১০ নম্বর আসামি।
প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় সংঘটিত গণহত্যার পরিকল্পনাকারীদের একজন ছিলেন তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সিএক্স/রয়েল






