ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘর, তবু থেমে নেই তিন কন্যার শিক্ষাযাত্রা

ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘর, তবু থেমে নেই তিন কন্যার শিক্ষাযাত্রা

কক্সবাজারের রামু উপজেলার একটি অসহায় পরিবার এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তাদের মাটির ঘর ভেঙে গেছে। তবুও পরিবারের তিন কন্যা নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিবারের কঠিন সংগ্রাম

জন্ম থেকেই এক চোখে দেখতে পান না রোকেয়া বেগম। অন্যদিকে পাঁচ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারান তাঁর স্বামী দিল মোহাম্মদ। বর্তমানে সংসারের প্রধান দায়িত্ব পালন করছেন রোকেয়া বেগম।
তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। তবে অনিয়মিত কাজের কারণে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঝড়ে ভেঙে পড়ে মাটির ঘর

স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পরিবারের মাটির ঘরের তিন পাশের দেয়াল ধসে পড়ে।

বর্তমানে ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে ঘর ঢেকে বসবাস করছেন তারা। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ফলে বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ভিজে যায়।

প্রতিকূলতার মাঝেও থামেনি পড়াশোনা

পরিবারের চার মেয়ের মধ্যে তিনজন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।

বৃষ্টি থেমে গেলে তারা উঠানে পলিথিন বিছিয়ে বই নিয়ে বসে। সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও তারা শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে চায়।

মায়ের একটাই স্বপ্ন

রোকেয়া বেগম বলেন, নিজের শারীরিক কষ্টের চেয়ে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তাঁর বেশি চিন্তা।
তিনি জানান, অর্থের অভাবে সব সময় বই-খাতা কিনে দিতে পারেন না। তারপরও মেয়েদের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় আশা।

অন্যদিকে দিল মোহাম্মদ বলেন, দুর্ঘটনার পর কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তাই সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে না পারার কষ্ট তাঁকে প্রতিনিয়ত পীড়া দেয়।

প্রশাসনের উদ্যোগ

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, পরিবারটির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা, নিরাপদ বাসস্থান এবং শিশুদের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সিএক্স/রয়েল