নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সিটি করপোরেশনের (চসিক) মশক ও ফগার কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিন্স সান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)।
রোববার সকালে চসিকের লাইব্রেরি ভবনের সম্মেলনকক্ষে তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে কর্মশালাটি।
প্রশিক্ষণে এমএসএফের দুইজন বিশেষজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদ সরাসরি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন কৌশল শেখাচ্ছেন। এতে চসিকের ২৩৪ জন মশক ও ফগার কর্মী অংশ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে কোন ধরনের মশা ডেঙ্গু ছড়ায়, মশার জন্ম ও বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ কীভাবে শনাক্ত করতে হয়, কোথায় মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে এবং সেসব স্থান কীভাবে ধ্বংস করা যায় এসব বিষয়ে কর্মীদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি মশক নিধনের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতিতে প্রয়োগের নিয়মও শেখানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এমএসএফের পক্ষ থেকে চসিককে সরবরাহ করা বিশেষ সুরক্ষাপোশাক ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪১ জনে। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন।
ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতিতে নগরীর মশার প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ ও ধ্বংস এবং মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও দক্ষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
‘একটি সঠিক স্প্রে বাঁচাতে পারে নাগরিকের জীবন’
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি কর্মীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাদের সঠিকভাবে প্রয়োগ করা একটি স্প্রেও একজন নাগরিককে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর দেওয়া করের অর্থ থেকেই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আরও বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের কাজ শুধু নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে কীটনাশক ছিটিয়ে আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবন সুরক্ষার বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর ও নিরাপদভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কর্মসূচিতে।
সিএক্স/রয়েল






