জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলী অক্ষুণ্ন রেখেই পুনর্গঠন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ভবনটির মূল কাঠামো এবং ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলী অক্ষুণ্ন রেখেই সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

রোববার জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি পুরোনো ভবন নয়; দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত একটি স্থাপনা। তাই প্রচলিত অর্থে সংস্কার না করে ভবনটির মৌলিক কাঠামো, স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক চরিত্র বজায় রেখেই পুনর্গঠন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাচীন স্থাপনা ও ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন থেকে নতুন প্রজন্মের শেখার অনেক কিছু রয়েছে। এ কারণে ভবনটি নির্মাণের সময়কার মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং নির্মাণপ্রক্রিয়া যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাদুঘর পরিদর্শনের পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের চিন্তা, মনন ও মানসিক বিকাশে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, নাটকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান অসামান্য। তাঁর বিপুল সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরাই ‘নজরুল বর্ষ’-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হবে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংগীত, কবিতা, নাটক ও নৃত্য এই চারটি বিষয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে ধাপে ধাপে এসব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে সরাসরি মনোনয়ন দিয়ে প্রতিযোগিতায় পাঠানোর পরিবর্তে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগী নির্বাচন করতে হবে।

শুধু বিজয়ীদের নির্বাচন করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতেও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

সংস্কৃতির পরিধি প্রসঙ্গে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, সংস্কৃতি কেবল গান, নাচ বা বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন, সাহিত্যচর্চা, বই পড়া, জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব, পোশাক, খাবার, রান্না ও পিঠা উৎসব সবই সংস্কৃতির অংশ।

তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, ড. সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিএক্স/রয়েল