স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি কনটেইনার জাহাজীকরণ; প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাকের পণ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বন্দরে এক জাহাজে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণে নতুন রেকর্ড হয়েছে। মায়ের্সক লাইনের একটি জাহাজে এবার ৯৩৩টি রপ্তানি কনটেইনার তোলা হয়েছে, যা বন্দরের ইতিহাসে এক জাহাজে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব কনটেইনারের প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাকশিল্পের পণ্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি পণ্যের বাড়তি চাপের পাশাপাশি বন্দরের দ্রুত ও সমন্বিত অপারেশন সক্ষমতার কারণেই এই রেকর্ড সম্ভব হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাহাজে কনটেইনার বোঝাই শেষ হয় এবং সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যেতে সক্ষম হয়।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১২ আগস্ট) জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ১১ নম্বর জেটিতে অবস্থানরত মায়ের্সক লাইনের ‘এমভি মায়ের্সক বিনতুলু’ জাহাজে ৯৩৩টি রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার, যা ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউসের সমান, জাহাজীকরণ করা হয়।
এর পাশাপাশি জাহাজটিতে আরও ১৪৪টি খালি কনটেইনার তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে জাহাজটিতে মোট ১ হাজার ৭৭টি কনটেইনার বা ১ হাজার ৯৩১ টিইইউস পণ্য ওঠানো হয়।
গত ৯ আগস্ট সকাল ৯টা ৫ মিনিটে জাহাজটিতে কনটেইনার বোঝাইয়ের কাজ শুরু হয়। টানা অপারেশনের পর বুধবার সকাল ৭টার দিকে তা শেষ হয়। তিন শিফটে তিনটি করে গ্যাং এবং দিন-রাতে ১৪টি করে ট্রেইলার ব্যবহার করে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এক জাহাজে ৯৩৩টি রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বা ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউস জাহাজীকরণ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৮ জুন এক জাহাজে ৭৪২টি কনটেইনার বা ১ হাজার ৪৩৯ টিইইউস জাহাজীকরণের রেকর্ড ছিল।
অর্থাৎ মাত্র ৫৫ দিনের ব্যবধানে আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক তৈরি হলো।
বাড়ছে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে হ্যান্ডলিং হয়েছে ২ দশমিক ১৪৪ মিলিয়ন টিইইউস।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রপ্তানি কনটেইনার
মায়ের্সক লাইনের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, সাধারণত তাদের একটি জাহাজে জিসিবি থেকে ৬০০ থেকে ৭০০টি রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার তোলা হয়। সেখানে এবার একই জাহাজে ৯৩৩টি কনটেইনার ওঠানো হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এর বড় অংশই তৈরি পোশাক খাতের পণ্য হওয়ায় সময়মতো জাহাজীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় চালান জাহাজে ওঠানো সম্ভব হওয়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরীর মতে, এক জাহাজে এত বিপুলসংখ্যক রপ্তানি কনটেইনার ওঠানো বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বার্থ অপারেটর, শিপিং লাইনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে মাত্র ৫৫ দিনের ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে এক জাহাজে ৯৩৩ রপ্তানি কনটেইনার জাহাজীকরণ দেশের বন্দর পরিচালনা ও রপ্তানি সক্ষমতার জন্য নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিএক্স/রয়েল






