প্রথম ধাপে ৫০টি বাস নারীদের জন্য, চার্জিং স্টেশন ও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
চট্টলা এক্সপ্রেস ডেক্স:
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের পথে বাংলাদেশ। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ঢাকার সড়কে নামতে পারে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস। এর মধ্যে ৫০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, দ্রুত বাসগুলো সংগ্রহের পাশাপাশি চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সময়ে চালক ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, যানজট ও পুরোনো বাসের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনা। মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহনের পরিবর্তে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, প্রচলিত প্রক্রিয়ায় নতুন বাস সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত বাস পাওয়ার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, সব প্রস্তুতি ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে তিন মাসের মধ্যেই রাজধানীর সড়কে ইলেকট্রিক বাস দেখা যাবে।
একই সঙ্গে বাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিসিং ও চার্জিং অবকাঠামো তৈরির কাজও শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট চালক ও কারিগরি কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বদলাবে বাস মালিকদের কাঠামো
ইলেকট্রিক বাস চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান বাস ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই রুটে একাধিক মালিকের বিচ্ছিন্নভাবে বাস পরিচালনার পরিবর্তে কোম্পানিভিত্তিক ব্যবস্থাপনার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাসকে ফিটনেস না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও বলা হয়েছে।
তিন মাসেই সব প্রস্তুতি কতটা বাস্তবসম্মত?
তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাস আমদানি বা ক্রয় করলেই বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবস্থা সফল হবে না। এর সঙ্গে প্রয়োজন পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, ডিপো, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং প্রশিক্ষিত চালক ও টেকনিশিয়ান।
বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামানের মতে, ইলেকট্রিক বাস চালুর আগে পুরো ব্যবস্থার জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। বাস সংগ্রহের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত পুরো অবকাঠামো ও জনবলকে প্রস্তুত করতে হবে। বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন ব্যবস্থার সমন্বয় না হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি টেকসই করা কঠিন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাজধানীর বর্তমান বিশৃঙ্খল বাস নেটওয়ার্ককে শৃঙ্খলার মধ্যে না এনে শুধু নতুন প্রযুক্তির বাস যুক্ত করা হলে প্রত্যাশিত সুফল নাও মিলতে পারে।
ইলেকট্রিক বাস ঢাকার গণপরিবহনে আধুনিকতার নতুন দরজা খুলতে পারে। তবে বাস কেনার পাশাপাশি চার্জিং ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল ও সুশৃঙ্খল রুট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই হবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সিএক্স/রয়েল






