গোলাপাহাড় মহাশ্মশান ও মন্দিরে ৪ পদে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি লায়ন আর.কে. দাশ রুপু, সম্পাদক রুবেল দে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

চট্টগ্রাম নগরীর ও.আর. নিজাম রোডে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গোলাপাহাড় মহাশ্মশান ও মন্দির পরিচালনা পরিষদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। ত্রি-বার্ষিক সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি পদে লায়ন আর.কে. দাশ রুপু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুবেল দে নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোলাপাহাড় মহাশ্মশান ও মন্দিরের মিলনায়তনে পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সভাপতি দোদুল কুমার দত্ত। সভা সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক শিমুল মুহুরী।

সভায় পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদন ও স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ দাশ বিশু। আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ সম্পাদক সঞ্জয় মল্লিক। সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।

সভায় পরিষদের সাবেক সভাপতি মাইকেল দে, সহ-সভাপতি জগন্নাথ মিত্র, কাজল দেব, সাধন সিংহ এবং লায়ন আর.কে. দাশ রুপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। সভার শুরুতে গীতা পাঠ করেন শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক প্রকৌশলী সুমন সেন।

এ সময় পরিষদের সদ্যপ্রয়াত সদস্য রূপক সেনগুপ্ত ঝুলনসহ গত এক বছরে প্রয়াত সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব

সভাটির দ্বিতীয় অধিবেশনে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন বিপ্লব দে পার্থ, ডা. দেবব্রত ভট্টাচার্য্য, উত্তম কুমার চক্রবর্তী, দোদুল কুমার দত্ত, বিশ্বনাথ দাশ বিশু, উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস ও সুমন ঘোষ বাদশা।

এ সময় সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব বাপ্পী দে, ভারত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক রয়েল কুমার পাল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট পাঁচলাইশ থানা কমিটির আহ্বায়ক রুবেল পাল, সদস্য সচিব নয়ন দত্ত, পাহাড়তলী থানা কমিটির আহবায়ক পলাশ দাশ, মোহরা শ্রী শ্রী লোকনাথ মন্দির কমিটির উপদেষ্টা বাবলু চৌধুরী, মহানগর কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য সুব্রত আইচসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভাপতি পদে দুইজন প্রার্থী থাকলেও কাজল দেব লায়ন আর.কে. দাশ রুপুকে সমর্থন জানান। পরবর্তীতে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে রুবেল দে ও অমলকৃষ্ণ নাথ টুটুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সদস্যদের হাততোলা ভোটে রুবেল দে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এছাড়া ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আনন্দময়ী কালী বাড়ি পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ এবং ১নং সদস্য পদে গোলাপাহাড় মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মাইকেল দে নির্বাচিত হয়েছেন।

নতুন কমিটিকে ঘিরে প্রত্যাশা

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পর পরিষদের সদস্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত নেতৃত্বের মাধ্যমে গোলাপাহাড় মহাশ্মশান ও মন্দির পরিচালনার কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, গতিশীল ও কার্যকর হবে।

বিশেষ করে মন্দিরের ধর্মীয় কার্যক্রম, মহাশ্মশানের সেবাব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নতুন কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও সেবামূলক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে নবনির্বাচিত নেতৃত্ব দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

সিএক্স/রয়েল