রাজশাহী অঞ্চলে নৌ পুলিশে কর্মরত থাকার সময়ে ওঠা ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার বি এম নুরুজ্জামানকে ‘তিরস্কার’ সূচক লঘুদণ্ড দিয়েছে সরকার। গত ১৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপন আদেশে এই লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে এমন দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা কিভাবে চট্টগ্রামে মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বহাল তবিয়তে থাকতে পারে।
বি এম নুরুজ্জামান ২৪তম বিসিএস কর্মকর্তা। চট্টগ্রামের আগে তিনি রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপির) উপ-পুলিশ কমিশনার ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখার চিঠির স্মারক নম্বর ৪৪.০০.০০০০,০০০.২৩৪.২৭.০০০৪.২৬-২৭৪। তবে প্রজ্ঞাপনটিতে কোন বিষয়ে অসদাচরণ ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত লেখা নেই।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বি, এম, নুরুজ্জামান (বিপি-৭৭০৫১১০৭৪৪) বর্তমানে সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি, নৌ পুলিশ, চট্টগ্রাম অঞ্চল, চট্টগ্রাম ইতঃপূর্বে নৌ পুলিশ, রাজশাহী অঞ্চল হিসাবে কর্মরত ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির ইচ্ছা পোষণ করলে গত ১৫-০৭-২০২৬ তারিখ তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে অভিযোগ, লিখিত জবাব, শুনানিকালে উভয়পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) বিধি যথাক্রমে অনুসারে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণ’-এর অভিযোগে একই বিধিমালার ৪(২) উপ-বিধি (১)(ক) অনুযায়ী তাকে ‘তিরস্কার’ সূচক লঘুদণ্ড দেওয়া হলো। জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। চিঠিতে পুলিশ মহাপরিদর্শকে প্রজ্ঞাপনটি বর্ণিত কর্মকর্তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় জারির অনুরোধ করা হয়েছে।






