এলএনজি টার্মিনালের সমস্যায় চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট

এলএনজি টার্মিনালের সমস্যায় চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিকল্প কোনো উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন থেকে শুরু করে আবাসিক গ্রাহকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, টার্মিনালটি সচল না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের চাহিদা মেটাতে ঢাকার দিকে তুলনামূলক বেশি গ্যাস সরবরাহ করায় চট্টগ্রামে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে স্বাভাবিক সময়েও সরবরাহ থাকে ২৭০ থেকে ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে সর্বশেষ প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।

বাসাবাড়ি ও শিল্পে বাড়ছে ভোগান্তি

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাস মিলছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলসহ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কাফকোতে সার উৎপাদন এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত আছে।

এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে কমেছে গ্যাস সরবরাহ

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি পরিচালনা করে সামিট। সম্প্রতি এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামে।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নগরী ও জেলার বিভিন্ন সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও সময়মতো গ্যাস পাননি। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কেজিডিসিএলের বক্তব্য

কেজিডিসিএলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছে। এই পরিমাণ সরবরাহ দিয়ে সব খাতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না।

কেজিডিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, গত প্রায় ১০ দিন ধরে গ্যাস সংকট চলছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ আরও কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

সিএক্স/রয়েল