চট্টলা ডেক্স:
পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য সংরক্ষিত ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি বুধবার স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে ওই দিন সকালে নাদিম মাহমুদ তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান এবং নেওয়া ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য কী
ঘটনার বিষয়ে নাদিম মাহমুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, তাঁরা তিন প্যাকেট দুধ খেয়ে ফেলেছিলেন। ওই দুধ শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ এ বিষয়টি তাঁরা জানতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
পরে দুধগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বলে জানতে পেরে অবশিষ্ট ২৭ প্যাকেট সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়ার কথা জানান নাদিম।
সংবাদ প্রকাশের পর ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর জেলা ছাত্রদলের নেতাদের নজরে পড়ে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায় জেলা ছাত্রদল।
জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষককে শোকজ
এদিকে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষককে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
একই ঘটনায় একদিকে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আরও আলোচনায় এসেছে।
সিএক্স/রয়েল






