শিশুদের পছন্দের কেক, কাজী ফার্মসের মাফিন স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক। এটি মানহীন এবং খাবার অনুপযোগী। কেকের মেয়াদ দুই মাস হলেও ব্যবহার হয় না সরকার নির্ধারিত প্রিজারভেটিভ।এমন ভয়াবহ তথ্য মিলেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) খাদ্য পরীক্ষার ল্যাবে। দায় স্বীকার করে ৮ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছে কাজী ফার্মস। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কেক শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব। এখানে পরীক্ষা করা হয়েছে বেশ কয়েকটি নামিদামি কোম্পানির মোড়কজাত খাদ্যপণ্য। এর মধ্যে কাজী ফার্মসের মাফিন কেকের রিপোর্ট ভয়ানক। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, উৎপাদনের ১৫ দিন পরে কেকের অম্লতা পাওয়া গেছে ৩ দমশিক ৩২; যা থাকার কথা এক। সরকার নির্ধারিত প্রিজারভেটিভও পাওয়া যায়নি কেকটিতে। ল্যাবের বিশ্লেষক বলছেন, কেকটি মানহীন, খাবার অনুপযোগী এবং শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
ডিএসসিসির খাদ্য পরীক্ষাগারের জনস্বস্থ্য এনালিস্ট ইলিয়াছ জাহেদী বলেন, এই পণ্যটা মানহীন এসেছে। এখানে আমরা অম্লতার বৃদ্ধি পেয়েছি; আদ্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছি। যে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করার কথা তা পাওয়া যায়নি।
কাজী ফার্মসের কেক খাবার অনুপযোগী, এ তথ্য জানেন না অভিভাবক বা দোকানদাররা। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলার পর ৮ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছে কাজী ফার্মস। মানহীন পণ্য বিক্রির বিষয়ে কথা বলতে চাননি প্রতিষ্ঠানটির কেউ। ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, চার লাখ করে মোট আট লাখ জরিমানা এবং ভবিষ্যতে এমন পণ্য যাতে না করেন, সে ব্যাপারে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক জানিয়েছেন, যত বড় কোম্পানিই হোক, মানহীন পণ্য বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, জরিমানা মানে তো অন্য প্রতিষ্ঠান দেখে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। এটা করা মানে একটা শিক্ষা দেওয়া। এটা না নিলে অন্যরা যারা আছে, তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার থেকে মানহীন পণ্য তুলে নিয়ে নতুন পণ্য বিক্রির বিষয়ে আদালতে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা করেনি কাজী ফার্মস।
সিএক্সপ্রেস/আরএস





