নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টলা এক্সপ্রেস
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানি এবার নগরীর পতেঙ্গা ও কাট্টলী এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ লক্ষ্যে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে নদীর ওপার থেকে নগরীতে পানি আনার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ‘পতেঙ্গা ও কাট্টলীর লবণাক্তপ্রবণ এলাকায় পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও গ্রাহক সুবিধা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। চলতি বছরের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
পানির চাহিদা মেটাতে নতুন উদ্যোগ
ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার মূলত দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পের দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে এর খুব অল্প অংশ ব্যবহার হচ্ছে।
ওয়াসা এখন নগরীর পানির চাহিদা পূরণে এই প্রকল্পের উৎপাদিত পানি পতেঙ্গা, কাট্টলী ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে।
কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার
ওয়াসা জানিয়েছে, ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্পের বিদ্যমান পাইপলাইন আনোয়ারার সিইউএফএল এলাকা পর্যন্ত রয়েছে। সেখান থেকে কর্ণফুলী টানেলের ভেতরে নির্মিত ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে নদী পার করে নগরীতে পানি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ জন্য টানেলের ভেতরে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি চেয়ে ইতোমধ্যে সেতু বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের সম্ভাবনা
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পেলেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।
উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
ওয়াসা শুধু পানি সরবরাহই নয়, ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে দৈনিক ৬ কোটি লিটার উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও ভবিষ্যতে সেটি ১০ কোটি লিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াসার মতে, পতেঙ্গা, কাট্টলী, হালিশহর, আনোয়ারা এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভবিষ্যতে পানির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। সেই চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রকল্পটির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগাতে উদ্যোগ
২০১৬ সালে শুরু হওয়া ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে কয়েক দফা সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের আবাসিক এলাকা এবং সিইউএফএল, কাফকো, কোরিয়ান ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পানি সরবরাহ করা। তবে প্রত্যাশিত সংখ্যক গ্রাহক না পাওয়ায় বর্তমানে প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত রয়েছে।
উপকৃত হবে পতেঙ্গা, কাট্টলী ও হালিশহর
ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পতেঙ্গা, কাট্টলী ও হালিশহর এলাকার অনেক স্থানে এখনো সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা দীর্ঘদিনের।
প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকায় পানি সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নগরীর সামগ্রিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে ওয়াসা।
সিএক্স/রয়েল






