বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কক্সবাজারে ‘ব্লু ইকোনমি’ বিশ্ববিদ্যালয়, নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে কক্সবাজারে বিশেষায়িত একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (UBEST)’। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক কার্যক্রম কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি)-এর বিদ্যমান অবকাঠামো, গবেষণাগার ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করে শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি আধা-সরকারি পত্র পাঠান। ওই পত্রে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং এ খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

পত্রটির সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডিঅ’ নম্বর: ৪৪.০০.০০০০.০০০.৯৯.০০০১.২৬।

নথিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ, গবেষণাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। এতে কয়েক বছর সময়ের পাশাপাশি বড় অঙ্কের সরকারি অর্থও ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের রামু-টেকনাফ সড়কের পাশে অবস্থিত বোরির বিদ্যমান গবেষণা অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করার ধারণা সামনে এসেছে। বোরিতে থাকা গবেষণাগার, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, তথ্যভাণ্ডার এবং সংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবল ব্যবহার করা গেলে নতুন করে বিপুল অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন কমবে বলে প্রস্তাবে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবের পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয় বলে প্রশাসনিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

যেসব বিষয়ে পড়ানো হতে পারে

প্রাথমিক পর্যায়ে UBEST-এ সামুদ্রিক অর্থনীতি ও সংশ্লিষ্ট খাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে

সমুদ্রবিজ্ঞান ও সামুদ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি

মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার

সামুদ্রিক পরিবেশ ও উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা

সমুদ্র পর্যটন ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট

প্রস্তাব অনুযায়ী এসব বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডিপ্লোমা পর্যায়ের কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগর, সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, উপকূলীয় পরিবেশ ও সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কক্সবাজারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সিএক্স/রয়েল