নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকা থেকে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসাইনের (৪৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তার নিজের হাতে লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে গত কয়েক মাসের নানা সমস্যা, কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক সংকট এবং একটি মামলাকে ঘিরে দুশ্চিন্তার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩৯) হালিশহর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা ও এজাহার দায়ের করেছেন।
নামাজের জন্য উঠে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখেন স্ত্রী
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে খাবার শেষে আনুমানিক রাত ১টার দিকে আবুল হোসাইন ও তার স্ত্রী আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠে অন্য কক্ষে যান শারমিন।
এ সময় দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি ফ্যানের সঙ্গে চাদর প্যাঁচানো অবস্থায় স্বামীকে ঝুলতে দেখেন। তার চিৎকার শুনে ছেলে ও পরিবারের স্বজনরা ছুটে আসেন। পরে চাদর কেটে আবুল হোসাইনকে নিচে নামানো হয়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হলে হালিশহর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
চিরকুটে উঠে এসেছে চাপ ও দুশ্চিন্তার কথা
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে দেখছে পুলিশ। চিরকুটে আবুল হোসাইন গত কয়েক মাস ধরে নানা সমস্যার মধ্যে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।
বিশেষ করে মোহাম্মদপুর জিবি শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণ বিতরণ, ঋণ দেওয়া-না দেওয়া এবং বদলিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চাপের কথা তিনি লিখেছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা আদায় না হওয়ার বিষয়টিও চিরকুটে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরোনো চেক মামলা নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা
চিরকুটে ২০২১ সালের একটি চেকসংক্রান্ত মামলার বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি লালদিঘী শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে আবুল হোসাইন ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি সিআর মামলা হওয়ার কথাও সেখানে লেখা হয়েছে।
আবুল হোসাইনের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটির বিষয়ে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জানতে পারেন। নিজেকে ওই ঘটনায় নির্দোষ দাবি করে তিনি লিখেছেন, মামলাটিকে কেন্দ্র করে গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে তিনি প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলেন না।
চিরকুটের শেষাংশে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটসহ অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক সংকট ও মামলাজনিত দুশ্চিন্তার বিষয়গুলো কীভাবে ভূমিকা রেখেছে, তা আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিএক্স/রয়েল






