কঠোর নিরাপত্তায় বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে পৌঁছায় তাঁর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স। মরদেহ গ্রহণ ও হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্যরেখায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মরদেহটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ সময় তাঁর বড় ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন ও স্ত্রী আরেফা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

মরদেহ হস্তান্তর ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

রোটনের মরদেহ দেশে ফেরার বিষয়টি ঘিরে শনিবার গভীর রাত থেকেই বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ কাজে ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কথা জানা গেছে। পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন।

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স সীমান্ত এলাকা ত্যাগ না করা পর্যন্ত চেকপোস্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এর ফলে কাস্টমস, বন্দর, ব্যাংক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কার্যক্রম এবং সাংবাদিকদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে সীমান্ত এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নির্ধারিত নিয়মে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন রোটন

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান রোটন। তাঁর মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ও অনাপত্তিসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পরে সড়কপথে পেট্রাপোল হয়ে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ ছিলেন রোটন

রোটন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সন্তান। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও যুক্ত হন। ২০২১ সালে দলটির শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন তিনি।

মরদেহ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সটি গন্তব্যের উদ্দেশে বেনাপোল চেকপোস্ট ত্যাগ করে। এদিকে মরদেহ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা শিথিল করার পর সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সিএক্স/রয়েল