নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামকে সম্প্রীতির নগরী উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকে যাতে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারও চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ।
মেয়র বলেন, গত বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা উদযাপনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সভায় মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। মেয়র এসব বিষয় শুনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, যানজট ও জনসাধারণের চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। পূজামণ্ডপে সৃষ্ট বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে রাখার জন্য তিনি পূজা কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করতে পারবেন এবং মণ্ডপের পরিবেশও সুন্দর থাকবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে মেয়র বলেন, পূজার সময়ে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইভটিজিংসহ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো পূজামণ্ডপে আলোকসজ্জা কিংবা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পূজা কমিটিগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পূজার সময়ে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেন মেয়র। তিনি বলেন, সড়ক ও ফুটপাতে এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হয়। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, মহানগর পূজা পরিষদের সহসভাপতি অরূপ রতন চক্রবর্তী, শ্রী শ্রী অঁভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য সচিব বাপ্পি দে, যুগ্ম আহবায়ক বিপ্লব চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নটু চৌধুরী, বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক বাবলু চৌধুরী , বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য রয়েল কুমার পাল, আনন্দময়ী কালী বাড়ী পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, সৎসঙ্গ আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, সুব্রত আইচ, মিঠন দাস সহ বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সিএক্স/রয়েল






